Fiver থেকে মাসে ১ লক্ষ টাকা ইনকাম করার উপায়

Fiver থেকে মাসে ১ লক্ষ টাকা ইনকাম করার উপায় জানতে হলে, শুধু অ্যাকাউন্ট খুললে হবে না। সঠিকভাবে গিগ তৈরি করতে হবে। সঠিকভাবে ফাইবারে একাউন্ট খুলতে হবে। এবং কাজ পাওয়ার কৌশল জানতে হবে। এই আর্টিকেলে নতুনদের জন্য একদম শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সবকিছু সহজ ভাষায় ধাপে ধাপে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে, যাতে যে কেউ এই আর্টিকেলটি পরেই Fiver এ কাজ শুরু করতে পারেন। 

Fiver-থেকে-মাসে-১-লক্ষ-টাকা-ইনকাম-করার-উপায়

বর্তমানে Fiver একটি জনপ্রিয় মার্কেটপ্লেস। যেখানে কাজ করে মানুষ খুব সহজেই লক্ষাধিক টাকা ইনকাম করতে পারে। আপনি যদি বাংলাদেশ থেকে ফাইবারে কাজ শুরু করতে চান, তাহলে এই আর্টিকেলে অ্যাকাউন্ট খোলা থেকে শুরু করে একদম ইনকাম করা পর্যন্ত ধাপে ধাপে আলোচনা করা হয়েছে। তবে, আপনার লক্ষ্য শুধু একাউন্ট খোলায় নয়! বরং এমন ভাবে শুরু করুন যেন মাসে ১ লক্ষ টাকা ইনকাম করতে পারেন।

পেইজ সূচিপত্রঃ Fiver থেকে মাসে ১ লক্ষ টাকা ইনকাম করার উপায়

Fiver থেকে মাসে ১ লক্ষ টাকা ইনকাম করার উপায়

Fiver থেকে মাসে ১ লক্ষ টাকা ইনকাম করার উপায় বর্তমানে খুবই সহজ একটি বিষয়। বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় মার্কেটপ্লেস গুলোর মধ্যে একটি হলো Fiver.  ফাইভার হলো, নিজের যোগ্যতা দিয়ে কাজ করে সেগুলো ক্লায়েন্টের কাছে বিক্রি করে ইনকাম করা। আপনি যদি আর্টিকেল রাইটিং ভালো করতে পারেন তাহলে আপনি ক্লায়েন্টের কাছ থেকে কাজ নিয়ে আর্টিকেল রাইটিং করে কাজ করে ইনকাম করতে পারবেন। ফাইভারে, গ্রাফিক্স ডিজাইন, আর্টিকেল রাইটিং, ভিডিও এডিটিং, ডাটা এন্ট্রি, ওয়েবসাইট বানানো, লোগো, থাম্বেল ডিজাইন ইত্যাদি। 

 এইগুলোর জন্য গিগ তৈরি করে ফাইবার একাউন্টের মালিকরা, তাদের ফাইবার একাউন্টে পাবলিশ করে থাকে। এবং সেখানে বিভিন্ন ক্লাইন্টরা এসে সেই গিগ গুলোতে ক্লিক করে উপরের সার্ভিস গুলো কিনে থাকে। এভাবে ফাইবার একাউন্টে ইনকাম করতে হয়। Fiver থেকে মাসে ১ লক্ষ টাকা ইনকাম করার উপায় হলো: প্রথমে একটি স্কিল শিখতে হবে যার চাহিদা প্রতিনিয়ত বেড়েই চলছে। যেমন: SEO কনন্টেন্ট রাইটিং, গ্রাফিক্স ডিজাইন, ভিডিও এডিটিং, ওয়ার্ডপ্রেস, ডিজিটাল মার্কেটার, AI কনটেন্ট এডিটিং। দ্বিতীয়, প্রফেশনাল ভাবে ফাইবার অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে। প্রোফাইলে সকল তথ্য সত্য দিতে হবে। ভালো ডেসক্রিপশন লিখতে হবে। আপনি যে সকল স্কিল পারেন সেগুলো যোগ করতে হবে। 

তৃতীয়ত, ৫-৭ টি গিগ তৈরি করুন। একটি গিগ দিয়ে বসে থাকবেন না। আপনি যে কাজগুলো পারবেন সেই কাজের উপরে সবগুলো গিগ তৈরি করুন। করে পাবলিশ করুন। যেমন: SEO আর্টিকেল রাইটিং, বাংলা আর্টিকেল রাইটিং, AI কনটেন্ট এডিটিং, ব্লগ পোষ্ট রাইটিং, প্রোডাক্ট ডিস্ক্রিপশন রাইটিং ইত্যাদি। চতুর্থতে, গিগ SEO করতে হবে। টাইটেল এর মূল কিওয়ার্ড ব্যবহার করুন। keyword এর সঙ্গে মিল রেখে পাঁচটি ট্যাগ দিন। ভালো, সুন্দর ও আকর্ষণীয় ডেসক্রিপশন লিখুন।। এবং আকর্ষণীয় থাম্বেল ব্যবহার করুন। 

পঞ্চমে, শুরুতে দশটি অর্ডার পাওয়ারই লক্ষ্য রাখুন। শুরুতে দাম একটু কম রাখতে পারেন। ভালো রিভিউ পাওয়ার পর ধীরে ধীরে দাম বাড়াতে পারবেন। আর শুরুতে দাম কম রাখলে অর্ডার আরো বেশি পাওয়ার চান্স থাকে। তারপর, ক্লাইন্ট বা বায়ারের মেসেজের উত্তর দ্রুত দিন। দ্রুত রিপ্লাই দিলে অর্ডার পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। 

এবং সব সময় সময় মত ক্লায়েন্ট এর কাছে কাজ জমা দিন। ভালো কাজ এবং সময় মত ডেলিভারি দিলে, ভালো রিভিউ এবং আরও বেশি অর্ডার পাওয়া যায়। আর মনে রাখবেন প্রথম ক্লায়েন্টটির সাথে যদি আপনি ভালো ব্যবহার এবং ভালোভাবে কাজ করে ভালোভাবে ডেলিভারি দিতে পারেন, তাহলে সেই প্রথম ক্লায়েন্ট আপনার কাছ থেকে পরবর্তীতে আবার কাজের অর্ডার করতে পারেন। প্রতিদিন ফাইবারে একটিভ থাকতে হবে। গিগ আপডেট করতে হবে। এবং যদি নতুন স্কিল শিখতে হবে, এবং নতুন গিগ যোগ করতে হবে।

Fiver কি? এবং Fiver এ কিভাবে কাজ করে

Fiver হলে একটা আন্তর্জাতিক ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস, যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষ অনলাইনের কাজ কেনাবেচা করে। ফাইবার দুই ধরনের মানুষ ব্যবহার করে থাকেন। প্রথমজন হচ্ছে, Buyer, যারা কাজ করিয়ে নিতে চান। এবং দ্বিতীয় জন হলো, seller (Freelance) যারা কাজ করে ইনকাম করে। উদাহরণ হিসেবে, একজন Buyer যদি একটি লোগো ডিজাইন, SEO আর্টিকেল, ভিডিও এডিটিং, বা ওয়েবসাইট বানাতে চান। তাহলে তিনি ফাইবারে অর্ডার দেন, এবং একজন Seller সেই কাজ সম্পন্ন করে দিলে Fiver এর মাধ্যমে টাকা পান।

Fiver এ কিভাবে কাজ করবেন: প্রথমে ফাইবারে একটি অ্যাকাউন্ট খুলুন এবং seller একাউন্ট চালু করুন। প্রোফাইলটি সম্পন্ন করুন। প্রোফাইলের ছবি, ডেসক্রিপশন, স্কিল, এডুকেশন, ল্যাংগুয়েজ। এইসব তথ্য গুলো ভালোভাবে সঠিক তথ্য দিয়ে পূরণ করুন। যাতে Buyer বা ক্লায়েন্ট আপনার সম্পর্কে জানতে পারেন। তারপর একটি গিগ তৈরি করুন। গিগ হলো আপনার সার্ভিসের বিজ্ঞাপন। যা দেখে Buyer বা ক্লাইন্ট  আপনাকে নক দিবে।

আরো পড়ুনঃ বিনা খরচে ঘরে বসে অনলাইন ইনকাম করার নিশ্চিত কার্যকরী উপায়

Buyer বা ক্লাইন্ট Fiver এ গিগ সার্চ করে আপনার গিগ দেখতে পাবে, যদি তার ভালো লাগে, তাহলে সে অর্ডার দিবে বা আগে মেসেজ করবে পরে অর্ডার দিবে। তারপর আপনি ক্লায়েন্টের কাজ শেষ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজে জমা দিবেন। তারপর Buyer বা ক্লায়েন্ট কাজ হাতে পেলে প্রথমে টাকা আপনার ফাইবার ব্যালেন্সে জমা হবে। এরপর নির্ধারিত সময় শেষে আপনি payonner বা অন্য সমর্থিত পেমেন্ট পদ্ধতিতে টাকা তুলতে পারবেন। 

Fiver এ কি কি কাজ পাওয়া যায় : SEO আর্টিকেল রাইটিং, ব্লগ রাইটিং, গ্রাফিক্স ডিজাইন, লোগো ডিজাইন, ভিডিও এডিটিং, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, ওয়ার্ডপ্রেস, ডিজিটাল মার্কেটিং, ডাটা এন্ট্রি, ভার্চুয়াল assistant, ট্রানসলেশন, AI কনটেন্ট এডিটিং, ভিডিও অফার, সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং, ফেসবুক থাম্বেল বানানো, স্ক্রিপ্ট লেখা ইত্যাদি। 

Fiver এ অ্যাকাউন্ট খোলার সম্পূর্ণ নিয়ম

ফাইভারে একাউন্ট খোলার জন্য সর্বপ্রথম আপনাকে ফাইবারের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে। মানে আপনার ফোনের ক্রোম ব্রাউজার খুলে, Fiver.com লিখে সার্চ করুন। এরপর যে ফাইবারের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট আসবে সেটাতে প্রবেশ করুন। সঠিক তাতে প্রবেশ করবেন। এরপর উপরে ডান পাশে থাকা Join বা Sing up অপশনে ক্লিক করুন। তারপর জিমেইল দিয়ে সাইন আপ করুন। সবচেয়ে সহজ উপায় হলো, continue with Google নির্বাচন করা। এরপর আপনার জিমেইল অ্যাকাউন্ট সিলেক্ট করুন। তারপর ইউজার নেম নির্বাচন করুন। এখানে একটি ইউনিক ইউজার নেম লিখতে হবে। 

মনে রাখবেন, একবার username সেট করলে পরে সাধারণত পরিবর্তন করা যায় না। তাই নিজের কাজের সঙ্গে মিল রেখে একটি পেশাদার username নির্বাচন করুন। উদাহরণ (NaharWrite1). Username এ অসংখ্য বা অযথা চিহ্ন ব্যবহার না করাই ভালো। এরপর email ভেরিফাই করুন। ফাইবার আপনার ইমেইলে একটি ভেরিফিকেশন লিংক পাঠাবে। জিমেইল খুলে সেই ইমেইল ওপেন করুন এবং Verify Email বাটনে ক্লিক করুন। ভেরিফিকেশব সম্পূর্ণ হয়ে গেলে আপনার ফাইবার একাউন্ট এক্টিভ হয়ে যাবে। 

Seller অ্যাকাউন্ট চালু করা সম্পূর্ণ নিয়ম : অনেকেই ফাইবারে account খুলে ভাবেন কাজ পাওয়া শুরু হয়ে যাবে। কিন্তু শুধু একাউন্ট খুললেই হবে না, কাজ করার জন্য আপনাকে Seller Account চালু করতে হবে। seller Account চালু করার জন্য প্রথমে আপনাকে, Fiver অ্যাকাউন্টটি লগইন করে, উপরে ডান পাশে থাকা আপনার প্রোফাইল ছবিতে ক্লিক করুন। এরপর Become a Seller বা Become a Freelance (বর্তমান ইন্টারফেস অনুযায়ী নাম কিছুটা ভিন্ন হতে পারে) অপশনে ক্লিক করুন। এরপর continue চাপুন। এবং যেই যেই ডকুমেন্ট চাইবে সেগুলো দিয়ে Seller মুড চালু করুন। Seller অ্যাকাউন্ট চালু হওয়ার পরে আপনি গিগ তৈরি করতে পারবেন এবং Buyer বা ক্লায়েন্ট এর কাছ থেকে অর্ডার নিতে পারবেন।

Fiver প্রোফাইল ১০০% কম্পিলিট করার উপায়

Fiver এ অনেক কাজ পেতে হলে ফাইবার প্রোফাইল টা ভালোভাবে কমপ্লিট করতে হবে। কারণ ফাইবারের প্রোফাইলটা ক্লায়েন্ট এর বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ায়। তাই প্রোফাইলটা যতটা সম্ভব হবে সম্পন্ন করতে হবে। ফাইবারের প্রোফাইল সম্পন্ন করতে হলে যা করতে হবে, প্রথমত, professional profile picture : এইটা পরিষ্কার, উজ্জ্বল এবং ভালো ছবি ব্যবহার করুন। ছবি দিয়ে মুখ স্পষ্ট দেখা গেলে ক্লায়েন্ট এর বিশ্বাস বাড়ে। ঝাপসা, অতিরিক্ত এডিট করা বা অন্য কারো ছবি ব্যবহার করবেন না। দ্বিতীয়তঃ, professional description : ডেসক্রিপশন এমন ভাবে লিখুন যাতে Buyer বা ক্লায়েন্ট বুঝতে পারে আপনি কি ধরনের কাজ করেন। 

Fiver-থেকে-মাসে-১-লক্ষ-টাকা-ইনকাম-করার-উপায়

উদাহরণ: Iam a professional SEO Content Writer. I write unique, engaging and search engine optimised articles. এরকম করে লিখতে হবে। যা যা এড করতে হয় এড করে সুন্দর করে ডিসক্রিপশনটা লিখতে হবে। ডেসক্রিপশন ছোট হলেও পরিষ্কার, খুব সুন্দর এবং দেখতে আত্মবিশ্বাসী লাগে এরকম ডেসক্রিপশন লিখতে হবে। তৃতীয়ত, occupation নির্বাচন : আপনি যে ধরনের সার্ভিস দিতে চান সেটির সঙ্গে মিল রেখে  Occupation নির্বাচন করুন। যেমন: Article writing, গ্রাফিক্স ডিজাইন, ওয়েবসাইট ডিজাইন ইত্যাদি। ভুল ক্যাটাগরি নির্বাচন করলে ক্লায়েন্টের কাছে আপনার প্রোফাইল কম বিশ্বাসযোগ্য মনে হবে। 

চতুর্থে, skill(স্কিল) যোগ করতে হবে : আপনি যে কাজটি পারেন ও আপনার দক্ষতার সঙ্গে মিল রেখেই স্থিল যোগ করতে হবে। যেমন আপনি যদি আর্টিকেল লিখেন তাহলে, SEO Writer, Blog Writer, Content Writer ইত্যাদি। অপ্রয়োজনে স্কিল যোগ করবেন না। শুধু যেগুলো কাজ সত্যি পারেন সেগুলোই দিন। তারপর আপনার education (শিক্ষাগত যোগ্যতা) দিন। যা সত্য তাই দিন ভুল তথ্য দিলে ভবিষ্যতে সমস্যা হতে পারে। তারপর ল্যাঙ্গুয়েজ, আপনি যে ভাষায় কাজ করতে পারেন সেই ভাষায় যোগ করুন। উদাহরণ : Bangla-Native, English-convertionalবা Fluent ( আপনার দক্ষতা অনুযায়ী)। 

এরপর সার্টিফিকেট এড করতে হবে। আপনার যদি ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে কোন অনলাইন কোর্স বা প্রশিক্ষণের  সার্টিফিকেট, থাকে তাহলে সেটা এড করুন। যদি সার্টিফিকেট না থাকে তাহলে কোন সমস্যা নেই। ভালো কাজ এবং ভালো রিভিউ ফাইবারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। 

Fiver অ্যাকাউন্টে প্রথম গিগ তৈরি করার উপায়

ফাইবার একাউন্টে কাজ পাওয়ার জন্য প্রথমে  gig (গিগ) তৈরি করতে হবে। গিগ আপনার সার্ভিসের বিজ্ঞাপন। Buyer বা ক্লায়েন্ট আপনার সার্ভিসের গিগ দেখে সিদ্ধান্ত নেয় যে আপনাকে কাজ দিবে কিনা। তাই গিগ যত ভালো হবে, আপনার কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা তত বাড়বে।  গিগ তৈরি করতে আপনার ফাইবার একাউন্টে লগইন করুন। লগইন করে  Create a Gig, my business, বা Gigs এ ক্লিক করুন। এরপর গিগ টাইটেল লিখতে হবে। গিগ এমন ভাবে লিখতে হবে যাতে ক্লায়েন্ট একবার দেখেই বুঝতে পারে আপনি কি ধরনের সার্ভিস দিয়ে থাকেন। 

যেমন আপনি যদি SEO article লেখেন তাহলে, গিগ " I Will Writer SEO Optimized blog articles in Bangla and Engish এভাবে লিখবেন। গিগ টাইটেলে অপ্রয়োজনে বড় হাতের অক্ষর, অযথা ইমোজি বা বিভ্রান্তকর শব্দ লিখবেন না।  এরপর ক্যাটাগরি (category এবং sub category) নির্বাচন করতে হবে। উদাহরণ : Writing and Translation, Article and blog post. এরপর সঠিক সাব ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন। ভুল ক্যাটাগরি দিলে Buyer এর সার্চে গিগ কম দেখা যেতে পারে। এরপর সার্চ tags যোগ করতে হবে।  কাজ পাওয়ার জন্য গিগ এর জন্য ট্যাগ ব্যবহার করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 

আরো পড়ুনঃ ইউটিউব শর্টস ভিডিও থেকে ইনকাম করার কার্যকরী উপায়

এরপর প্রাইজ সেটআপ করতে হবে। নতুন হলে শুরুতে  দাম অনেক বেশি রাখবেন না। দাম অল্প রাখবেন এবং অভিজ্ঞতা ও রিভিউ বাড়ার সাথে সাথে দাম বাড়াতে পারবেন। এরপর গিগ ডেসক্রিপশন লিখতে হবে। গিগ ডেসক্রিপশন অবশ্যই পরিষ্কারভাবে লিখতে হবে। ডেসক্রিপশনে লিখবেন,  আপনি কি কাজ করেন, Buyer কেমন সুবিধা পাবে, দ্রুত কাজ করে দিবেন, কেন আপনার কাজকে বেছে নিবে ইত্যাদি। Buyer যেন বুঝতে পারে আপনি কাজে কেমন অফার করছেন। 

তারপর FAQ যোহ করুন। Buyer বারবার যে প্রশ্নগুলো করতে পারে, সেগুলোর উত্তর আগে থেকেই FAQ এ লিখে দিন। উদাহরণ,  আপনি কি 100% ইউনিক কনটেন্ট লিখবেন?  উত্তর :হ্যাঁ প্রতিটি আর্টিকেল সম্পূর্ণ ইউনিক হবে। তারপর Requirements যোগ করুন। অর্ডার দেওয়ার আগে Buyer এর কাছ থেকে কি তথ্য লাগবে তা এখানে লিখুন। যেমন: টপিক, ফোকাস কিওয়ার্ড, ওয়াড কাইন্ট, বিশেষ নির্দেশন (যদি থাকে)। এতে কাজ শুরু করার আগে সব তথ্য পেয়ে যাবেন। 

উপরের ধাপ গুলো সম্পন্ন করলে gallery ধাপে যাবে। সেখানে আপনাকে তিনটা ইমেজ দিতে হবে। গ্যালারি এর কভার ইমেজ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ইমেজে সাইজ হবে, 1280×769 px. পরিষ্কার ডিজাইন, বড় সহজে পড়া যায় এমন লেখা, আপনার সার্ভিসকে তুলে ধরে এমন ভিজুয়্যাল,  অতিরিক্ত লেখা লিখে এলোমেলো ডিজাইন করবেন না। এতে  ক্লায়েন্ট বিরক্ত হন। গিগ বানানোর জন্য সব তথ্য দেয়া হয়ে গেলে, সব তথ্য গুলো ভালো করে চেক করে Publish Gig বাটনে ক্লিক করুন। তাহলেই গিগ পাবলিশ হয়ে যাবে। 

Fiver অ্যাকাউন্টের গিগ SEO করার নিয়ম

অনেকে আছেন, যারা অনেক ভালো কাজ করতে পারেন এবং ফাইবারে ভালো কাজে সার্ভিস দিয়ে থাকেন, কিন্তু তারা ঠিকভাবে কাজ পায় না, ফাইবার থেকে। কারণ তারা ফাইবারের যে গিগ আছে সেটা SEO করে না। এবং গিগ SEO ঠিকমতো না হওয়ায় Buyer বা ক্লাইন্ট তাদেরকে খুঁজে পান না। গিগ টাইটেলে: আপনার মূল সার্ভিসের কিওয়ার্ড রাখুন। 

Tags(ট্যাগ): Buyer বা ক্লায়েন্ট যেসব শব্দ লিখে সার্চ করতে পারে, সেসব শব্দ লিখুন  ট্যাগে। ডেসক্রিপশন : একই কিওয়ার্ড স্বাভাবিকভাবে কয়েকবার ব্যবহার করুন। অযথা বারবার একই শব্দ লিখবেন না। gallery image : গ্যালারি ইমেজ এ এমন একটি ছবি দিবেন যাতে, Buyer স্কল করতে করতে সহজে আপনার গিগের দিকে যেন নজর দেয়। 

Fiver এ প্রথম অর্ডার পাওয়ার উপায়

Fiver এ নতুন Seller জন্য প্রথম অর্ডার পাওয়াই সবচেয়ে কঠিন ধাপ। কিন্তু কয়েকটি বিষয় মেনে চললে প্রথম অর্ডার পাওয়া অনেক সহজ হয়ে যায়। প্রথমত, এমন একটি সার্ভিস দিয়ে কাজ শুরু করুন যে কাজে আপনার অনেক দক্ষতা আছে এবং আপনি ওই কাজের প্রতি অনেক বেশি অভিজ্ঞ এমন কাজ। তবে শুধুমাত্র বেশি ইনকামের আশায় এমন কাজ নিবেন না।

 যে কাজ আপনি পারেন না। দ্বিতীয়তঃ, শুরুতে আপনার সার্ভিসের দাম কম রাখুন। তৃতীয়ত, Buyer এর মেসেজের উত্তর যত দ্রুত সম্ভব দিন। এবং Buyer বা ক্লায়েন্ট এর সঙ্গে ভদ্র ভাবে কথা বলুন। Buyer বা ক্লায়েন্টের মেসেজের উত্তর তাড়াতাড়ি দিবেন, এবং Bayer বা ক্লায়েন্টের সঙ্গে ভালোভাবে কথা বলা, অর্ডার পাওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এবং Buyer এর কাজ তাড়াতাড়ি জমা দিন। 

Buyer এর সঙ্গে কিভাবে কথা বলবেন : Buyer এর সাথে সবসময় ভদ্র, সংক্ষিপ্ত, এবং পেশাদার ভাষায় কথা বলুন। যদি আপনার কোন বিষয় বুঝতে সমস্যা হয়, তাহলে অনুমান করে কাজ না করে Buyer এর কাছে জিজ্ঞাসা করে কাজ করুন। তাহলে আপনার কাজে কোন ভুল হওয়ার চান্স থাকবেনা। এবং Bayer যেমন কাজ চাই আপনি তেমন কাজ দিতে পারবেন এতে Buyer সন্তুষ্ট থাকবে। 

আপনার কাজ করা শেষ হয়ে গেলে আপনি Buyer কে একটি ছোট বার্তা বা মেসেজ লিখতে পারেন। যেমন: Your order has been complete. If you need any change, please Let's me know. Thank You. এতে Bayer এর ভালো অভিজ্ঞতা হয় এবং ভালো কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। 

যে ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন : একই ব্যক্তি একাধিক ফাইবার অ্যাকাউন্ট খুলবেন না। অন্যের গিগ কপি করবেন না। ভুয়া রিভিউ বা অর্ডার কেনার চেষ্টা করবেন না। Buyer সঙ্গে বাজে ব্যবহার করবেন না। নিজের দক্ষতার বাহিরে কাজ নিয়ে, অর্ডার বাতিল করবেন না। এই ভুলগুলো করলে গিগ এর রেঙ্ক  কমে যেতে পারে। বা গুরুত্বর ক্ষেত্রে একাউন্ট সীমাবদ্ধ হতে পারে। 

Fiver অ্যাকাউন্টে payoneer যোগ করে টাকা তোলার নিয়ম

ফাইবার থেকে ইনকাম করা ডলার বা টাকা সরাসরি হাতে আসে না। এজন্য একটি পেমেন্ট মেথড যুক্ত করতে হয়। এজন্য বাংলাদেশের অনেক ফ্রিল্যান্সার payoneer ব্যবহার করেন। কারণ এটি আন্তর্জাতিক প্রেমেন্ট গ্রহণের জন্য অন্যতম। ফাইবার একাউন্টে এটি যোগ করার জন্য প্রথমে, ফাইবার একাউন্ট লগইন করতে হবে। তারপর My Businesses, Earning, Payout Methods এ যান।  সেখানে payoneer নির্বাচন করুন। এবং নির্দেশনা অনুযায়ী আপনার payoneer অ্যাকাউন্ট সংযুক্ত করুন।। নাম, জন্ম তারিখ ও অন্যান্য তথ্য ফাইবার একাউন্টের সঙ্গে মিল রেখে করার চেষ্টা করুন। যাতে ভবিষ্যতে ভেরিফিকেশন এর কোন সমস্যা না হয়। 

ক্লাইন্ট অর্ডার সম্পন্ন করে গ্রহণ করার পর টাকা বা ডলার প্রথমে আপনার ফাইবার ব্যালেন্সে যোগ হবে। নিধারিত ক্লিয়ারেন্স এর সময় শেষ হলে আপনি সেটি payoneer এ ট্রান্সফার করতে পারবেন। এরপর আপনার যে ব্যাংক একাউন্ট আছে সেই ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে টাকা তুলতে পারবেন। 

Fiver অ্যাকাউন্ট থেকে মাসে ১ লক্ষ টাকা ইনকার করার উপায়

Fiver থেকে মাসে ১ লক্ষ টাকা ইনকাম করার উপায় এটা অনেক ক্ষেত্রে অনেক সহজ হয়। এই জন্য প্রয়োজন সঠিক অভিজ্ঞতা, এবং প্রয়োজনে ইচ্ছা শক্তি। এবং এর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ধৈর্য। Fiver থেকে মাসে ১ লক্ষ টাকা ইনকাম করার উপায় এটি করার জন্য শুরুতে লক্ষ্য রাখুন পাঁচ থেকে দশটি অর্ডার সম্পূর্ণ করার। এরপর ভালো রিভিউ পাওয়ার পর ধীরে ধীরে গিগ এর মূল্য বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে একটি নয়, একাধিক মানসম্মত গিগ তৈরি করুন এবং নিয়মিত আপডেট করুন 

Fiver-থেকে-মাসে-১-লক্ষ-টাকা-ইনকাম-করার-উপায়

আরো পড়ুনঃ ডলার রিসিভ করার জন্য payneer একাউন্ট কিভাবে খুলবো

প্রতিদিন নতুন কিছু শেখার অভ্যাস করুন, ক্লায়েন্টের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করুন। শুতে অর্ডার না আসলেও নিয়মিত ধৈর্য ধরে লেগেই থাকুন। কারণ ফাইবারের প্রথম অর্ডার আসতে একটু সময় লাগলেও পরবর্তী অর্ডার গুলো খুব সহজেই পাওয়া যায়। এবং প্রথম যে ক্লায়েন্ট অর্ডার করবে, তার কাজ ভালোভাবে করে বুঝিয়ে দিন। কারণ ক্লায়েন্ট এর কাছে একবার ভালোভাবে কাজ বুঝিয়ে দিতে পারলে সেই ক্লায়েন্ট পরবর্তীতে বারবার অর্ডার করেন। এবং অনেক ক্ষেত্রে অন্যদেরকে অর্ডার করার পরামর্শ দেন। 

সাধারণ ভুলগুলো এড়ানোর উপায়

Fiver থেকে মাসে ১ লক্ষ টাকা ইনকাম করার উপায় এটা অনেকেই করতে চায়। তবে সবাই ভুল ভাবে কাজ করার কারণে ভালো থেকে টাকা ইনকাম করতে পারেনা। Fiver অ্যাকাউন্ট থেকে মাসে ১ লক্ষ টাকা ইনকার করার উপায় এটি করার জন্য অবশ্যই সঠিকভাবে কাজ করতে হবে। যেমন: ফাইবার অ্যাকাউন্ট সঠিকভাবে ক্রিয়েট করতে হবে। একাউন্টে কোন প্রকার ভুয়া তথ্য দেওয়া যাবে না। 

ফাইবার অ্যাকাউন্ট যে সকল তথ্য দিবেন সেই তথ্যগুলো জন্ম নিবন্ধন (NID) বা পাসপোর্ট এর সাথে হুবহু মিল রেখে দিবেন। শুধু ফাইবারে অ্যাকাউন্ট ক্রিয়েট করে বসে থাকবেন না। কাজ পাওয়ার জন্য আপনি যে সকল কাজগুলো পারেন সেই কাজের উপর ভিত্তি করে করে গিগ তৈরি করবেন। প্রতিটি কাজের জন্য আলাদা আলাদা গিগ তৈরি করবেন। শুধু গিগ তৈরি করলে হবে না, গিগে সঠিক ডকুমেন্ট দিতে হবে। প্রথম প্রথম অর্ডার পেতে একটু সময় লাগবে, ওই সময়টুকুতে ব্যর্থ হয়ে কাজ ছেড়ে দেওয়া যাবে না। ধৈর্য ধরে কাজ করতে হবে। 

প্রতারণা থেকে বাঁচার উপায় ও সফল হওয়ার টিপস্

প্রতারণা থেকে বাঁচার উপায়: ফাইবারে কাজ করার সময় অনেকে প্রতারণার শিকার হয়ে থাকে। সফল হতে হলে অবশ্যই প্রতারণাগুলো এড়িয়ে চলতে হবে। অনেক সময় দেখা গেছে অনেক ক্লায়েন্ট আপনাকে নক দিয়ে, বলবে তারা আপনার থেকে কাজ করিয়ে নিবে। এবং বলবে তার সঙ্গে তাকে ৫০ ডলার ১০০ ডলার এরকম পেমেন্ট করতে হবে। যখনই তারা ডলার পেমেন্ট করতে বলবে তখনই বুঝে নিবেন তারা প্রতারক। তাদের থেকে এড়িয়ে চলবেন। 

সফল হওয়ার টিপস্: ফাইবার একাউন্টে সফল হতে হলে অবশ্যই ধৈর্য ধরে কাজ করতে হবে। ফাইবার একাউন্টে প্রথম অর্ডার পেতে একটু সময় লাগলেও পরের অর্ডার গুলো পেতে সময় লাগে না খুব সহজেই পাওয়া যায়। ফাইবার অ্যাকাউন্টে খুব সহজে অর্ডার পাওয়ার জন্য অ্যাকাউন্টটা ভালোভাবে তৈরি করতে হয়। গিগ ভালোভাবে তৈরি করতে হবে ও SEO করতে হবে। ক্লায়েন্ট এর সাথে অবশ্য ভালো ব্যবহার করতে হবে। ক্লায়েন্টর সাথে কোন প্রকার প্রতারণা করা যাবে না। 

শেষ কথাঃ Fiver থেকে মাসে ১ লক্ষ টাকা ইনকাম করার উপায়

Fiver থেকে মাসে ১ লক্ষ টাকা ইনকাম করার উপায় সম্পর্কে এই আর্টিকেলে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বিস্তারিত ধাপে ধাপে আলোচনা করা হয়েছে। এবং কিভাবে ফাইবার অ্যাকাউন্ট খুলবেন, কিভাবে ফাইভার থেকে মাসে লাক্ষ টাকা ইনকাম করবেন, কিভাবে প্রথম অর্ডার পাবেন, Seller অ্যাকাউন্ট কিভাবে খুলবেন, কিভাবে গিগ বানাবেন এবং গিগ কিভাবে প্রকাশ করবেন, কিভাবে গিগ SEO করবেন, ও কিভাবে payoneer ফাইবার অ্যাকাউন্টে এড করে খুব সহজেই টাকা তুলবেন এই সবকিছু এই আর্টিকেলে খুবই সহজ ভাষায় ধাপে ধাপে আলোচনা করা হয়েছে। আপনি যদি এই আর্টিকেলটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়েন, তাহলে আপনি নিজেও ফাইবার থেকে খুব সহজেই লক্ষাধিক টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

আমার পরামর্শ হলো, আপনি এই আর্টিকেলটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ুন, এবং আর্টিকেলে দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করুন। দেখবেন, খুব সহজে আপনি ফাইবার থেকে অনেক টাকা ইনকাম করতে পারবেন। তবে আরেকটি কথা, ফাইবারে সফল হতে হলে অবশ্যই সততার প্রয়োজন। এবং সময় মত কাজ সম্পন্ন করা ও সময়মতো কাজ বুঝিয়ে দেওয়া। ভালো গিগ তৈরি করে পাবলিশ করা। এবং ধারাবাহিক মান বজায় রাখলে মাসে ১লক্ষ টাকা বা তারও অধিক টাকা খুব সহজেই ইনকাম করা যাবে।




এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন